LondonMirror
আইন-আদালত

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পাঁচ দিনের রিমান্ডে

মানব পাচার মামলায় ‘এক এগারোর’ আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম এই আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাতে বারিধারা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। ২০০৭ সালে আলোচিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম কুশীলব ছিলেন, সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাবেক এই জিওসি।

২০০৭ সালে যখন এক এগারো সরকার ক্ষমতায় আসে তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। সে সময় তার প্রভাব এতটাই ছিলো যে, তার নেতৃত্বেই গঠন করা হয় গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি, যা পরবর্তীতে জাতীয় টাস্কফোর্স নামেও উল্লেখ করা হতো।

এই কমিটির প্রধান উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার। বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের কারাগারে প্রেরণ, এরপর নির্যাতন। এই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর চলে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতনের মাত্রা এতোটাই ছিলো যে তারেক রহমানের পাজরের হাড় পর্যন্ত ভেঙ্গে যায়। তখনই চিকিৎসকরা ধারণা করেন, তারেক রহমানকে উঁচু কোন স্থান থেকে ফেলে দেয়া হয়।

 ছবি: সংগৃহীত
এরপর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এক এগারোর সরকার ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়ে দেয় দেশে বাইরে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কয়েক দফা তার চাকুরির মেয়াদ বাড়ায়। ২০১৮ তে দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে জাতীয় পার্টি থেকে দুই দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাসা থেকে ডিবির হাতে গ্রেফতার হন আলোচিত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ছাড়াও ফেনী জেলায় আরও তিনটি মামলা এবং ডিএমপিতে পাঁচটি, দুদক এবং সিআইডিতে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

ডিবি প্রধান জানান, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিএমপির কয়েকটি থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টা এবং মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে মামলা রয়েছে। ফেনীতে দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। প্রাথমিকভাবে তাকে ডিবির তদন্তাধীন পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।

মানবপাচার মামলার রিমান্ড শুনানিতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘জিয়া পরিবারকে শেষ করে দেয়া’ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘হত্যা চেষ্টার’ অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। ঢাকার একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের পক্ষে শুনানির যুক্তি দিতে গিয়ে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে এসব অভিযোগের কথা বলেন।

 ছবি: সংগৃহীত
আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, তথাকথিত এক-এগারো সরকারের সময় এই আসামিসহ (জেনারেল মাসুদ) অন্যরা মিলে ট্রুথ কমিশন গঠন করে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নির্যাতন করতো এবং তাদের ক্ষমা করে দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো। বিশেষ করে মাইনাস টু ফর্মুলার নামে জিয়া পরিবারকেই শেষ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস। যাকে (তারেক জিয়া) টর্চার করে হত্যা করতে চেয়েছিল, তিনিই এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী।

শুনানির পর পুলিশ প্রহরায় সাবেক জেনারেলকে আদালত থেকে লিফটে করে নিচে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া আইনজীবী ও বিক্ষুব্ধ কিছু ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারেন। এতে তার বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ভিজে যায়। এসময় বিক্ষুব্ধদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

Related posts

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ১১৯ কোটি টাকা আয়কর দিতে হবে

Newsdesk

বিশেষ কারাগারে একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা

Newsdesk

৮ বছরে এসএসসি, ১৭ বছরে এমবিবিএস

Newsdesk