পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা দ্বিতীয় দিনে গড়ানোর পর রোববার (১২ এপ্রিল) তিনি ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং ফিল্ড মার্শাল মুনিরের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আলোচনার যে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য পাকিস্তানিরা দায়ী নয়, কারণ তারা অসাধারণ কাজ করেছে।
ভ্যান্স বলেন, আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও করেছি, এটাই ভালো খবর। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি, যোগ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই এসেছিল’ উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় মনোভাব এবং ‘সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই’ আলোচনায় এসেছিল, কিন্তু দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি (চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারা) যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। সুতরাং, আমরা কোনো চুক্তিতে না পৌঁছেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমাগুলো কী, তা আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।’ জেডি ভ্যান্স জানান, আলোচনা চলাকালীন তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত ছয়বার কথা বলেছেন।
‘আমরা এখান থেকে একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছি, বোঝাপড়ার পদ্ধতি, যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব। দেখা যাক, ইরানিরা সেটি গ্রহণ করে কি না’, বলেন তিনি।
আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় আমরা বেশ নমনীয় ছিলাম, আমরা বেশ মানিয়ে চলার মানসিকতায় ছিলাম।
কয়েক ঘণ্টার এই আলোচনার সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বহুবার কথা বলেছেন। ‘আমি জানি না আমরা তার সঙ্গে কতবার কথা বলেছি, গত ২১ ঘণ্টায় হয়তো ছয়বার বা বারোবার,’ বলেন ভ্যান্স।
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্সের পেছনে ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যারা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন।
সূত্র : বিবিসি
