পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সাম্প্রতিক এক দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরোধ শুরু করবে।
পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। বৈঠকের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, যদিও অনেকগুলো বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে, কিন্তু মূল সমস্যা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমাধান আসেনি। ট্রাম্পের স্পষ্ট বক্তব্য, সব পয়েন্টে রাজি হওয়া সম্ভব হলেও ইরানের হাতে পারমাণবিক শক্তি থাকতে দেয়া যায় না। তারা অত্যন্ত অস্থির ও অননুমেয় লোক।

ট্রাম্প তার বার্তায় সরাসরি কয়েকটি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ প্রবেশ করতে বা বের হতে পারবে না। মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করবে। যেসব জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে কর দিয়েছে, সেগুলোকে খুঁজে বের করে আটকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানান, যারা ইরানকে অবৈধ অর্থ দেবে, তারা সমুদ্রপথে কোনো নিরাপত্তা পাবে না।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরান এই প্রণালীতে যে মাইনগুলো পেতে রেখেছে, মার্কিন নৌবাহিনী সেগুলো ধ্বংস করা শুরু করবে। ইরানের অজুহাতের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তারা মাইন থাকার কথা বলে মুক্ত চলাচলে বাধা দিচ্ছে। ট্রাম্প কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি কোনো ইরানি আমাদের দিকে বা কোনো শান্তিপূর্ণ জাহাজের দিকে গুলি ছোড়ে, তবে তাদের সরাসরি নরকে পাঠানো হবে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এই আন্তর্জাতিক জলপথ উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পালন করেনি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এই জলপথ খুলে দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে এই দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন করার জন্য পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তার দলের ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। অবরোধ খুব দ্রুতই শুরু হবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি ও সিএনএন
