বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সঙ্কটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে চলাচলকারী লাইটার জাহাজে। পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভেসেল (বড়ো জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস ও গন্তব্যে পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। জ্বালানির অভাবে কয়লা পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে ৭০টির বেশি মাদার ভেসেল পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১০০ লাইটার জাহাজ নিয়োজিত থাকে। প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০টি জাহাজ পণ্য খালাসের শিডিউল পায়। এই কার্যক্রম সচল রাখতে দৈনিক আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সঙ্কটের কারণে লাইটার জাহাজগুলো বহির্নোঙরে পৌঁছাতে না পারলে পণ্য লোড-আনলোডের গতি ধীর হয়ে যাবে। আমরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) চিঠি দিয়েছি।
বর্তমানে দেশে সচল ছয়টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে মাতারবাড়ী ছাড়া বাকি পাঁচটিতেই লাইটার জাহাজের মাধ্যমে কয়লা সরবরাহ করা হয়। মাসে প্রায় সাড়ে আট লাখ মেট্রিক টন কয়লা পরিবহনে ৪০০ থেকে ৪২০টি লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিজেল সঙ্কটে এই সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার পথে।
ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট শফিক আহমেদ বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মোংলায় ফ্লোটিং জেটির মাধ্যমে লাইটারেজ জাহাজে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় জাহাজগুলো অলস বসে থাকছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল আলম জুয়েল জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা কয়লা নৌপথে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানো এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইনল্যান্ড ট্রেড এজেন্সির ম্যানেজিং পার্টনার শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-চতুর্থাংশেরও নিচে নেমে আসায় পুরো নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটার শঙ্কা রয়েছে।