শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

মহাসড়কের পাশে পুকুরে মিলল অস্ত্রের গুদাম

প্রতিবেদক
Newsdesk
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরে একটি পুকুরের তলদেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। নির্বাচনের আগে সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কার মধ্যে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশের একটি পুকুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এ দিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা সদরের কানাইপুর আখ সেন্টার এলাকার একটি পুকুরে এই অভিযান চালানো হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা নাশকতাকারী গোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব অস্ত্র গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি বিদেশি পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলি, দুটি সিঙ্গেল ব্যারেল কাটা পাইপগান ও দুটি কার্তুজ, পাঁচটি চাইনিজ কুড়াল, ৬৫টি ছোট-বড় ছেনদা, আটটি বল্লম, ছয়টি চাকু, ১০১টি বর্ষার মাথা, একটি টেটা এবং পাঁচটি খালি কাঁচের মদের বোতল।

জানা গেছে,  সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা ধরে পুকুরের পানির নিচে ও মাটির তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রের সন্ধান পায় যৌথ বাহিনী।  প্রথমে সেচযন্ত্র দিয়ে পুকুরের পানি সরানো হয়। পরে পানির স্তর বেশি থাকায় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় জাল টেনে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে স্কচটেপে মোড়ানো বস্তা ও প্যাকেট উদ্ধার করা হলে সেখান থেকে অস্ত্রের ভাণ্ডার পাওয়া যায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাজ।

এ ঘটনায় কাউকে আটক করা না হলেও কারা এসব অস্ত্র মজুত করেছিল, কী উদ্দেশ্যে এবং কতদিন ধরে পুকুরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ বলেন, ‘নাশকতার উদ্দেশে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর সঙ্গে থানায় লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এত পরিমাণ অস্ত্র একা কোনো ব্যক্তির পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। এর পেছনে শক্ত নেটওয়ার্ক রয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশের পুকুরকে অস্ত্র লুকানোর স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া মোটেও কাকতালীয় নয়। প্রয়োজনে দ্রুত তুলে নেওয়া এবং সন্দেহ এড়াতে পানির নিচে রেখে দেওয়ার কৌশল—এটি প্রশিক্ষিত ও সংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়।

সর্বশেষ - আইন-আদালত