ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ (সদর) আসনে নির্বাচন এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। আসন দুটিতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে।
বগুড়া-৬: তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে লড়াই
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ১৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর আগে বুধবার সকাল ১১টায় শহরের সেন্ট্রাল স্কুল মাঠ থেকে সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে তিন হাজার ৭৩৬ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জায়েদ ইবনে আবুল ফজল জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচনী মাঠে দুই জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ, দুই হাজার আনসার সদস্য ছাড়াও আট প্লাটুন বিজিবি, ১০ প্লাটুন র্যাব এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জয়ী হয়েছিলেন। তিনি একাধিক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় সাংবিধানিক নিয়মে এই আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার।
শেরপুর-৩: ২৭ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, মূল লড়াই বিএনপি-জামায়াতের
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে উপনির্বাচনের জন্য ১২৮টি কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে ভোটের আগের দিনই। তবে এই আসনের ২৭টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে এই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিলো।
এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ১৩ হাজার। নির্বাচনের লড়াই মূলত সীমাবদ্ধ থাকছে বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাসুদুর রহমানের মধ্যে। ভোটের পরিবেশ নিয়ে জামায়াত প্রার্থী সরকারের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। রুবেল জানান, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই জামায়াত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট দেওয়া নিয়ে বিশেষ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
