মন্ত্রীদের ছেলে, স্ত্রী নিয়ে এডহক কমিটি গঠন নিয়ে বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে যথেষ্ট অনিয়ম পাওয়া গেছে। তাই কমিটি বিলুপ্ত করে, অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছে। যারা তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
বুধবার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যে এই বিতর্ক হয়। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে মঙ্গলবার কমিটি বিলুপ্ত করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিসিবি সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তামিম ইকবালকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।
এই কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী রাশনা ইমাম, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার ভাতিজা ফাহিম সিনহা।
নতুন কমিটিকে নগ্ন দলীয়করণ বলা আখ্যা দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের সমালোচনা করেন।
সংসদে হাসনাত বলেন, যেভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে সেখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে দলীয়করণ করা হবে না, আবার ‘বাপের দোয়া একটা মানবাধিকার কমিশন বা বিরোধীদল দমন কমিশন’ করা হবে না, এ আস্থা রাখতে পারছি না।
এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দলীয়করণ করা হলে দিনশেষে গুম খুন থেকে শুরু করে জুলাই সুরক্ষা কাগজেই থেকে যাবে। না হয় বিসিবির মতো আমরা আবার ‘বাপের দোয়া কমিশন’ দেখতে পাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মত আবার দলীয়করণ দেখতে পাবো। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলাকে যেভাবে এক ধরনের দলীয়করণ করা হয়েছে আমরা সেভাবে দেখতে পাব।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন কীসের মধ্যে কী পান্থা ভাতে ঘি। এখানে বিষয়টি হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। এটা জুলাই যোদ্ধাদের দাবি ছিল। এই দাবি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় এ দফা রয়েছে।
বিসিবি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে, এই বিলের মধ্যে ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড কীভাবে এলো। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষমতার প্রয়োগ করে সারা বাংলাদেশে জেলা কমিটিগুলো প্রভাবিত করেছিল। বাংলাদেশে যেসব রেজিস্ট্রার্ড ক্লাব ছিল তাদের কাউন্সিলরদের প্রভাবিত করে সরকারি সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একতরফাভাবে ক্রিকেট বোর্ডে একটি বডি করা হয়েছিল। হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি না করেই এটা করা হয়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটি রিপোর্টে বলেছে যথেষ্ট অনিয়ম হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনে বিসিবি বিলুপ্ত করা হয়েছে। দেশের কৃতি ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে বাপের দোয়া-মায়ের দোয়া করিনি। এতদিন শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহন আছে। আজকে মাননীয় সংসদের কল্যাণে দেখলাম বাপের দোয়া কমিটি আছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দখল কারা করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে, তা এদেশের মানুষ জানে। বাংলাদেশ ব্যাংক কাদের নেতৃত্বে, কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল। আমরা মনে করেছিলাম বাংলাদেশের অর্থনীতিটা পুনরুদ্ধারের জন্য তারা কাজ করবে। বিপরীত করেছে। আমরা এখন সাফার করছি। আর বিশ্ববিদ্যালয়? সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় কারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল? এগুলো আমরা বলতে চাই না। এই ফ্যাসাদে আমরা যেতে চাই না।
