রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে আটক জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দুপুরে আদালতে তোলা হবে। তবে তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম সকালে গণমাধ্যমকে জানান, শিরীন শারমিনকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে কোন মামলায় রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে।
এর আগে সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। প্রথমদিকে আটক করার কারণ স্পষ্ট না করা হলেও পরে পুলিশ জানায়, উত্তরা ও বনানী থানায় দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে যেকোনো একটিতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও কোন নির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার হন আবদুল হামিদ। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকারের দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন। এরপর টানা দীর্ঘ সময় তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। এর ২৭ দিনের মাথায়, ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বিদেশে চলে গেলেও কেউ কেউ দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাবেক এই স্পিকারও গ্রেফতার হলেন।
উল্লেখ্য, শিরীন শারমিন চৌধুরী রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের।
