যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান সরকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে কিনা, তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তবে মঙ্গলবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।
বিবিসি ভেরিফাই ও মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যে ৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে, তার মধ্যে দুটি তেল ও রাসায়নিক ট্যাঙ্কার। এই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।
‘জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টারের’ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮ পণবাহী জাহাজ চলাচল করত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। সমুদ্রবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’-এর প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলে প্রায় ৮০০ জাহাজ আটকা পড়ে আছে। আর এই অচলাবস্থার ফলে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ এবং তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ এই সরু প্রণালি দিয়েই পরিবহন হয়। ইরান সরকার যদি পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে রাখে, তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান এই প্রণালি খুলে না দিলে তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তার ওই হুমকির মঙ্গলবার রাতে অনেকটা নাটকীয়ভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে আগামীকাল শুক্র অথবা শনিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে হলেও হরমুজ প্রণালি দেয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টিকে ইতিবাচক মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
হরমুজে জাহাজ চলাচলে বিকল্প রুট চালুর ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বিকল্প রুট চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। জলপথটির মূল অংশে সামুদ্রিক মাইন থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নীতি মেনে চলতে এবং সামুদ্রিক মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে বিকল্প রুট ব্যবহার করা উচিত।’
বিবৃতিতে প্রণালি দিয়ে প্রবেশ এবং বের হওয়ার বিকল্প রুটের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে এএফপি। তবে তারা এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু তুলে ধরেনি।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান সাময়িকভাবে এই প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা
