রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে মনিরা শারমিন বলেন, একটি জনসভায় তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন—বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। কাকতালীয়ভাবে পরদিন গণমাধ্যমে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যাংকগুলোর কাছে ঠিক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের তথ্য চেয়ে ব্যক্তিগত চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, এটি নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পিত কৌশল।
মনিরা শারমিন আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের যেখানে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছে।”
এনসিপি নেত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, গণমাধ্যমের একটি অংশও প্রকাশ্যে ওই দলকে সমর্থন দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দখলে চলে যাচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে মনিরা শারমিন বলেন, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট পরিস্থিতি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

















