নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিশুর প্রতি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে দলটির নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারে নারীদের জন্য বিশেষভাবে ১২টি প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে।
১২ প্রতিশ্রুতির মূল বিষয়সমূহ:
১. নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষা: জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন করে সহিংসতার দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে।
২. ‘নারী চলবে নির্ভয়ে’ লক্ষ্য: পিক আওয়ারে আলাদা নারী বাস সার্ভিস, গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা, দোতলা বাসে আলাদা কম্পার্টমেন্ট, জরুরি কল নম্বর এবং ইমার্জেন্সি পোল স্থাপন করা হবে।
৩. আমার আয়ে আমার সংসার: গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। হাঁস-মুরগি খামার, গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ ইত্যাদি প্রকল্পে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। নারীবান্ধব নগর পরিকল্পনায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার, আলাদা টয়লেট ও নামাজের সুবিধা থাকবে।
৪. নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: জীবনব্যাপী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ চালু করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
৫. নারীর স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া: প্রতিটি জেলায় নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও ক্যানসার সচেতনতা নিশ্চিত করা হবে।
৬. আইন সংস্কার: নারীর সম্পত্তি অধিকার রক্ষায় ‘সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গড়ে তোলা হবে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার চালু করা হবে।
৭. হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন: প্রকৃত হিজড়াদের শনাক্ত করে পুনর্বাসন করা হবে। তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চাকরির কোটা সংরক্ষণ করা হবে।
৮. নারী, শিশু ও পরিবারের উন্নয়ন: পরিবার কাউন্সেলিং ও মোটিভেশন সেন্টার চালু, নিরাপদ বিদ্যালয় কর্মসূচি ও মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অনুদান ও সেবা বৃদ্ধি করা হবে।
৯. নারীর সম্পদের অধিকার: ধর্মীয় প্রচারণা বাড়িয়ে নারীর সম্পত্তি অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
১০. ভিকটিম নারীর সহায়তা: প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। সুবিধাবঞ্চিত, বিধবা ও সধবা নারীদের জন্য ক্ষুদ্র প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে পুঁজি সরবরাহ ও তদারকি করা হবে। হাসপাতালের ডিএনএ ল্যাবে নারী চিকিৎসক ব্যবস্থা করা হবে।
১১. দরিদ্র গর্ভবতী ও শিশুর স্বাস্থ্য: গর্ভবতী ও প্রসূতি নারীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। শিশু খাদ্যের ওপর কোনো মূল্য সংযোজন (VAT) থাকবে না।
১২. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু: চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে।


















