কুমিল্লার কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের সবার পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যার মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং দুইজন শিশু রয়েছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহজাহান নিহতদের পরিচয় ও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিহতরা হলেন:
- লাইজু আক্তার (২৬), যশোর জেলা।
- খাদিজা (৬), লাইজু আক্তারের মেয়ে।
- মরিয়ম (৩), লাইজু আক্তারের আরেক মেয়ে।
- তাজুল ইসলাম (৬৭), চাঁদপুর জেলার চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের ছেলে।
- জুহাদ বিশ্বাস (২৪), ঝিনাইদহ জেলার মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে।
- সিরাজুল ইসলাম (৭০), যশোর জেলার চৌগাছার বাসিন্দা।
- কোহিনূর বেগম (৫৫), সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী।
- বাবুল চৌধুরী (৫৫), নোয়াখালী সোনাইমুড়ি এলাকা।
- ফচিয়ার রহমান (২৬), মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে।
- সোহেল রানা (২৫), চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে।
- নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫), নোয়াখালী জেলার ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে।
- সাঈদা (৯), লক্ষ্মীপুর জেলার সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।
ডা. শাহজাহান জানান, দুর্ঘটনায় আহত ২৪ জনের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে স্বজনদের সাথে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে চারজন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর কুমিল্লার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেল ও সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লায় রেল দুর্ঘটনার জন্য যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রেল দুর্ঘটনা কমাতে এবং রেলক্রসিং আধুনিকায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাতে তিনটার দিকে মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর দিকে যাওয়ার পথে মামুন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।