গত বছরের সেপ্টেম্বরের ‘জেন জি’ বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। একই মামলায় নেপালি কংগ্রেস নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডুপোস্টের।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে ভক্তপুরের নিজ নিজ বাসভবন থেকে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
এর আগে গত রাতে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এই নাটকীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভোরের আলো ফোটার আগেই অভিযানে নামে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকালে ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকা থেকে কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর কিছুক্ষণ আগে ভোর পাঁচটার দিকে ভক্তপুরের সূর্যবিনায়ক থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে হেফাজতে নেওয়া হয়।
এই হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তার অভিযানে ভক্তপুর জেলা পুলিশ রেঞ্জ এবং কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশ অফিসের বিশেষ দলগুলো অংশ নেয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে পুরো কাঠমান্ডু উপত্যকা জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে।
সাবেক বিশেষ আদালতের বিচারপতি গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন একটি কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জেন জি বিক্ষোভে ৭৭ জনের মৃত্যু এবং শত শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি রোধে ব্যর্থতার জন্য ওলি ও লেখককে সরাসরি দায়ি করা হয়েছে। জাতীয় দণ্ডবিধির ১৮১ ও ১৮২ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাচা তৎকালীন পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুং, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রধান রাজু আরিয়াল এবং আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে তৎকালীন সরকারের ‘বেপরোয়া মনোভাব’ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পূর্বপ্রস্তুতি না নেওয়াই ছিলো এই বিপুল প্রাণহানির প্রধান কারণ।
বর্তমানে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই তাদের আদালতে তোলা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।