রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চান মিয়া হাউজিং এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে ৪ নম্বর রোডের একটি বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এসি মামুন জানান, রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা বকুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গজ দূরেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা। এ ছাড়া মামুনুল হকের অফিসও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, মাদ্রাসার উত্তর পাশে মামুনুল হকের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কে বা কারা কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমরা জানি না।
গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বোমা বা বোমাজাতীয় বস্তু পাওয়ার খবরের মধ্যেই এবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে বাড়িটির একাংশ ধসে পড়ে। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পকেটগেট এলাকায় ব্যাগ থেকে হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। এর কয়েক দিন পরই কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ী এলাকায় কালিগাছতলা মন্দির প্রাঙ্গণে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
২৫ মার্চ রাজধানীর সায়েদাবাদের জনপদ মোড় এলাকায় পুলিশের তল্লাশির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘ছাতা বোমা’ পাওয়া যায়। ৩১ জুলাই সাভারে এক মুদি দোকানের সামনে প্রেশার কুকারে বোমাজাতীয় বস্তু পাওয়া যায়। সর্বশেষ গত ১ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেট ও মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনে ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়ার খবরে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য মেট্রোরেল চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। চলমান রাজনৈতিক বাগ্বিতণ্ডার মধ্যে নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।