নড়াইল পৌরসভার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়ুয়া অন্তত ছয় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান (২৫)। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। মাহবুবুর নড়াইল পৌর এলাকার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই মাদ্রাসারই ছয় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু গ্রেপ্তারের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাতে ওই মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেন শিক্ষক মাহাবুবুর। পরদিন ২৮ আগস্ট ভুক্তভোগী শিশুর মা মাদ্রাসায় এলে শিশুটি পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। পরে ওই মা ও শিশু বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে জানায়। এ সময় ঘটনার খবর পেয়ে মাদ্রাসায় থাকা অন্য শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে আসে এবং তারা জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে আরও অন্তত পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীকে একইভাবে যৌন নির্যাতন করেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক দ্রুত সটকে পড়েন এবং আত্মগোপনে চলে যান।
পরে পাঁচ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদি হয়ে নড়াইল সদর থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে এবং শনিবার দিবাগত রাতে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা মাহাবুবুরকে গ্রেপ্তার করে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, গ্রেপ্তার শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোসহ মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

