বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টানার সুযোগ পাচ্ছেন ঘরের মাঠেই। নিজ দেশের দর্শকদের সামনে যেন বিদায় নিতে পারেন এই মহাতারকা সেজন্যই জন্যই এ আয়োজন করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন (এএফএ)।
তিনটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করেছে এএফএ যার শেষটিতে খেলার জন্য এখন মাঠে নামার অপেক্ষায় মেসি। এরপর আর কখনও দেখা যাবে না আর্জেন্টিনার জার্সিতে।
আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জন্য মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। স্কোয়াডে রয়েছেন মেসি।
এক ভিডিও বার্তায় এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের জাতীয় দলের প্রতীক, আমাদের অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি যেন ৬ অক্টোবর এখানে আর্জেন্টিনাতে যথাযথভাবে তার প্রাপ্য বিদায়টি পেতে পারেন।’
এদিকে মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করতে তাঁর সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকে এ ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁকে উৎসর্গ করা হবে বলে জানিয়েছেন তাপিয়া।
ভিডিও বার্তায় এএফএ সভাপতি বলেন, ‘লিওনেল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর আমরা কাতারে তাঁর সঙ্গে খেলা ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ এ ম্যাচে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা স্মরণীয় উপলক্ষ হতে চলেছে।’
গত বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। এরপর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সুপারস্টার।
নিজের ফেসবুক পেজে অবসরের কথা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘ফাইনালের পর থেকে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা হৃদয়ে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এখনই সরে দাঁড়ানোর সময়। আমি শপথ করে বলতে পারি, সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তা নয়; এর আগেও জাতীয় দলের এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি।’
জাতীয় দলের হয়ে দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন, সেই চেষ্টা সবসময় করেছি।’
অবসরের সিদ্ধান্তের কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর খুব বেশি সময় বাকি নেই, একের পর এক অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটি এমন একটি অধ্যায়, যা আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলে থাকা আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসব। আমি নিজেকে পুরোপুরি উজাড় করে দিয়েছি। এখন আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। তাছাড়া পেছন থেকে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য।’
ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের সমর্থনের শব্দ আমি খুব মিস করব। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে জাতীয় দলকে সমর্থন করব। ভালো সময় হোক কিংবা খারাপ সময়, সবসময় পাশে থাকব।’
পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘এই সুন্দর কিন্তু কঠিন যাত্রায় সবসময় পাশে থাকার জন্য আমার পরিবারকে ধন্যবাদ। যেসব কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। তাদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতি ও মুহূর্তগুলো আমি কখনও ভুলব না।’
জাতীয় দলের হয়ে সতীর্থদের সঙ্গে পাওয়া সাফল্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার সতীর্থদের সঙ্গে আপনাদের স্বপ্নের মুহূর্তগুলো উপহার দিতে পেরেছি, এ নিয়ে আমি শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে এসব মুহূর্ত উপভোগ করা ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। আমি আপনাদের ভালোবাসি।’
সবশেষে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারাকে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভামোস আর্জেন্টিনা।’