দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝআকাশে ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে নজিরবিহীন ও রক্তক্ষয়ী মারামারির ঘটনা ঘটেছে! এই সহিংস গোলযোগের কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাত্র দুই মিনিটে এক ধাক্কায় ১৭,৪০০ ফুট নিচে নেমে আসে।
জীবন-মরণের এমন চরম সন্ধিক্ষণে বিমানটি থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত এবং পরবর্তীতে বিমান ছিনতাই বা ‘হাইজেক’-এর আন্তর্জাতিক জরুরি কোড (৭৫০০) বার্তা পাঠানো হয়। ঘটনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম আতঙ্ক ও টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ১৮০ জন ইসরাইলি যাত্রীসহ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমানটি শেষ পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিমানটিতে দুই পাইলটের মধ্যে বিবাদের এক পর্যায়ে একজন অন্যজনকে ছুরিকাঘাত পর্যন্ত করেন! পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক রূপ নিয়েছিল যে, এক পাইলট আত্মহত্যা করে বিমানটি ধ্বংস করার চেষ্টা চালান বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পরে বিমানে থাকা কয়েকজন ইসরাইলি যাত্রী বিমানের ক্রুদের সাথে মিলে হামলাকারী পাইলটকে কাবু করতে সহায়তা করেন। এদিকে বিমান ছিনতাইয়ের কোড পাওয়ার সাথে সাথেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ইসরাইলি বিমান বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিমান আকাশে উড়াল দেয়। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন।

ঘটনার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সৌদি আরবে পৌঁছে যাওয়া ইসরাইলি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও মার্কিন মধ্যস্থতায় ২০২২ সাল থেকে ইসরাইলগামী ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দিয়েছিল সৌদি আরব।
সেই বিরল সুযোগেই আজ তাবুক সেনা ও বেসামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করল ইসরায়েলি যাত্রীদের এই দুর্ঘটনাকবলিত বিমান। চরম নাটকীয়তায় ভরা এই ককপিট কাণ্ডের ঘটনায় কোনো বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা না ঘটলেও, মাঝআকাশে দুই পাইলটের এই উন্মাদের মতো মারামারির ঘটনা বিশ্ব বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও চঞ্চল্যকর অধ্যায় হয়ে থাকল!
তত্যসূত্র: সিএনএন-এনডিটিভি