সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার চার মাস পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথি আক্তার (২৫)। দীর্ঘ দিন শারীরিক নানা জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত বিথি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার মো. রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। মৃত্যুর এ তথ্য জানিয়েছেন তার স্বামী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিথির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের পরিচালনায় ওই অস্ত্রোপচারের সময় অবহেলা করে পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়।
অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তীব্র ব্যথা ও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথি। অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তার পেটে আবারও বড়ো ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে গুরুতর সংক্রমণ ও জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা দেওয়া হলেও বিথির শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হতে থাকে। অসুস্থতার কারণে তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে মাত্র ৩৮ কেজিতে নেমে আসে।
সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দীর্ঘ চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না এই মা। মায়ের স্নেহ স্পর্শ না পেয়েই দিন কেটেছে অবোধ শিশুটির। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বিথির পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক ও আমি বিথির বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তানকে দেখে এসেছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।