আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, অর্থনীতি চাপে

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি রাজনৈতিক দায়, বিক্ষোভের পেছনে কারা রয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাঙ্গার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনশিল্পেও উদ্বেগ বাড়ছে। বড় বড় শহরে হোটেল বুকিং দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পর্যটন আয়েও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এই অস্থিরতার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে ফ্রান্সে একাধিক তত্ত্ব সামনে আসছে। কেউ বামপন্থি ও নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করছেন, আবার কেউ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এসবের মধ্যেই দেশটির আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক বিভক্তি সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

দাঙ্গার প্রকৃত কারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে ঘটনাগুলো এবং সেগুলো কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে সংসদীয় তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ শনিবারের সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থিদের দায়ী করেছেন। তবে এলএফআই নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এ অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, শনিবার তিন হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বড় অংশই সুযোগসন্ধানী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। লুট করা পণ্য অনেকে দ্রুত অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করে। কেউ কেউ মুখও ঢাকেনি। পুলিশ সিসিটিভি ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও পরীক্ষা করছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, সহিংসতা ও চুরির ঘটনায় দায়ী সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
দাঙ্গার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সহিংসতা আরও ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দেখে কেউ কেউ সহিংসতায় যোগ দিতে আশকারা পেতে পারে– এমন ধারণার ভিত্তিতে ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আত্তাল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম সাময়িক বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফ্রান্সে দাঙ্গা দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, দাঙ্গার কারণ ও দায় নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটি এমন এক রাজস্ব সংকটের মুখোমুখি, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় ও ঋণের বোঝা সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসার পাশাপাশি জ্বালানির দাম ও বন্ডের সুদের হার বাড়ায় সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কর বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় আসতে পারে। কিন্তু দুটি সিদ্ধান্তই রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয়।

পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা
ফ্রান্সের দাঙ্গার ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হওয়ায় দেশটির পর্যটনশিল্পে উদ্বেগ বাড়ছে। পর্যটন খাতের প্রতিনিধিদের আশঙ্কা, সহিংসতা আবার শুরু হলে এর প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে।

দেশটির পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এডিএন ট্যুরিজমের প্রধান ক্রিস্তেল কাসানিয়ে বলেন, নিস, প্যারিস ও লিওঁর কেন্দ্রস্থলে সহিংসতার ঘটনা ‘বিপর্যয়কর’। তিনি জানান, দাঙ্গার দৃশ্য পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতাকে ‘প্যারিস কি নিরাপদ’– এমন প্রশ্ন তুলতে দেখা যাচ্ছে। প্যারিসে থাকা কিছু পর্যটক শহর ছাড়ার কথা ভাবছেন।

সাম্প্রতিক সংবাদ

সৌদি আরব থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Newsdesk

সাজেকে ফের সড়ক অবরোধ, আটকা আড়াই হাজার পর্যটক

Newsdesk

ইরানে হামলার দিনক্ষণ ঠিক করল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

Newsdesk