ইরানের ওপর জারি করা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে সহায়তা এবং অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগে কানাডাভিত্তিক আটটি অর্থ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। এই পদক্ষেপের ফলে সংস্থাগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি যেকোনো মার্কিন নাগরিক বা সংস্থার সঙ্গে তাদের সব ধরনের লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, কানাডার ওন্টারিও ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় অবস্থিত এই আটটি প্রতিষ্ঠান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের বিভিন্ন সংস্থাকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে আসছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মিলিয়ন এক্সচেঞ্জ (ডাইভার্স ট্রেড ইনক), ১৩৮০০৭৯ বিসি লিমিটেড, টপ পিসি টেকনিশিয়ান ইনক, এনআইএ নেশনস কারেন্সি লিমিটেড, ফারাহ এক্সচেঞ্জ (২৩৯৭৬৩৯ ওন্টারিও লিমিটেড), সিসিসি ইনক, বি গ্যালাক্সি ইনক এবং দরবেশ এক্সচেঞ্জ।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানি শাসন ব্যবস্থা বা তাদের সহযোগীদের অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কানাডাকে কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ইরানের এসব অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তা খুঁজে বের করে ধ্বংস করবে।
এর পাশাপাশি ক্রিপ্টো লেনদেনের ওপরও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ফাইনান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) ভার্চুয়াল মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম ‘এমইএক্সসি গ্লোবাল’ -কে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। সেশেলসে নিবন্ধিত এই প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশের হয়ে অন্তত ১,৬০০ কোটি (১৬ বিলিয়ন) ডলারের অনৈতিক ক্রিপ্টো লেনদেনে সহায়তা করেছে। ফিনসেনের এই আদেশের ফলে মার্কিন কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমইএক্সসি গ্লোবালের কোনো লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে পারবে না।
সূত্র: রয়টার্স