LondonMirror
All Postবাংলাদেশ

ইসির সঙ্গে সংলাপে যা বললেন শিক্ষাবিদরা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ আজ (রোববার) থেকে শুরু করেছে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম দিন শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এই সংলাপ শুরু হয়েছে। শিক্ষাবিদদের পরামর্শ নিতে সংলাপে হাবিবুল আউয়াল কমিশনের প্রথম বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন ১৩ জন শিক্ষাবিদ।

আজকের সংলাপে যে ১৩ জন শিক্ষাবিদ অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ১১ জনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার, অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক মফিজুল ইসলাম, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, ড. আখতার হোসেন, অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান, অধ্যাপক জাফর ইকবাল, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান ও অধ্যাপক লায়লাফুর ইয়াসমিন।

এর আগের কমিশন সংলাপে মতামত নিলেও তা বাস্তবায়ন না করার কারণ দেখিয়ে অনেকেই এবার অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সংলাপে বসে নির্বাচন কমিশনকে কাজের মাধ্যমে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। আগামী সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষাবিদরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভোটের সময়ে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখার তাগিদ দিয়েছেন। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

সংলাপে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনকে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না- সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর আস্থা অর্জন করতে হবে কাজের মাধ্যমে। এজন্য সামনে যেসব নির্বাচন আসবে সেগুলো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ইসিকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখতে হবে। ক্ষমতাসীন দল আর প্রশাসনকে এক করা যাবে না। নির্বাচনের সময় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখার ক্ষমতা ইসিকে আইনেই দেওয়া আছে। তিনি বলেন, ভারতে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এখানে সুষ্ঠু করা সম্ভব নয় কেন?

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল প্রায় সবকিছুতে ‘না’ বলছে। নির্বাচন কমিশনকে তাদের জন্য ‘স্পেস’ করে দিতে হবে। বারবার তাদের আমন্ত্রণ জানাতে হবে। নির্বাচন যেন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিমূলক হয় সেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেছেন, দায়িত্ব শেষে নির্বাচন কমিশন যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারে যে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে তাহলেই হবে। কে কী বলেছে- তা শুনলে হবে না।

তিনি বলেন, এক কোটি ভোটার দেশের বাইরে থাকেন। তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিলে খুব ভালো হয়। ভোটের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা নির্যাতনের শিকার হন। তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে মানুষ ভোগান্তি দূর করতে উদ্যোগী হওয়ারও আহ্বান জানান এই শিক্ষাবিদ।

নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার বলেন, সামনে নির্বাচন কীভাবে ভালো করা যায় এটাই সবার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে তা অস্বচ্ছ। আপনারা (ইসি) সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন। আপনাদের তিনজন আমলা। আপনারা সরকারের সুবিধাভোগী। আপনারা কীভাবে সরকারের বিরাগভাজন হবেন। এখানে চক্ষুলজ্জারও বিষয় আছে।

Related posts

স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর হবে শিশুরা: প্রধানমন্ত্রী

Newsdesk

বন্দি নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচার, তালিকা প্রকাশের দাবি

Newsdesk

আজ ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, একাদশে আসছে পরিবর্তন

Newsdesk