ইসরাইল ও পশ্চিমাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ৯০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ইসরাইল ও আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অঘোষিত যুদ্ধের ২৫তম দিনে এই পদক্ষেপকে শত্রুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে প্রেস টিভি এই খবর দিয়েছে। এক প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, বিগত কয়েক দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে এই অভিযান চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারদের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সমাজ থেকে এই বৈরী সংবাদমাধ্যমের প্রভাব পুরোপুরি নির্মূল বা মানসিক শুদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান কার্যালয় থাকা এই ফার্সি ভাষার স্যাটেলাইট চ্যানেলটি দীর্ঘকাল ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে সহায়তা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা নিয়ে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নেটওয়ার্কটিকে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
ইসরাইল ও আমেরিকার এই আগ্রাসনে ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। এর আগে কিছু সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গিয়েছিল, ইরান তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য যেসব শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এই নেটওয়ার্কটি বন্ধ করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়া।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং কিছু আরব রাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। অনেক সময় আমেরিকা ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার চররা ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে এই চ্যানেলে কাজ করে থাকে। এর সঙ্গে পতিত শাসক পাহলভি পরিবারও জড়িত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই মাধ্যমটি ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর চালানো সামরিক হামলার স্বপক্ষে বানোয়াট যুক্তি প্রচার করে ইসরাইল ও আমেরিকার সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেশটিকে একটি পারমাণবিক হুমকি হিসেবে চিত্রায়িত করা তাদের অন্যতম প্রধান কৌশল।