LondonMirror
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের রাসায়নিক কারখানায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ‘খণ্ডাংশ’ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের একটি রাসায়নিক কারখানায় আঘাত হেনেছে। রোববারের এ হামলায় কেউ হতাহত না হলেও কারখানাটিতে আগুন লেগে যায় এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য জানিয়েছে।

দিনের ষষ্ঠ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা একটি শিল্পাঞ্চলে আঘাত হানে এবং আগুন ধরে যায়।

এরপর আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যার একটির আঘাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বীরশেবায় ১১ জন সামান্য আহত হন।https://youtu.be/pyKlxp4gUqA?si=-_X_E9iHUUILP–f

একটি সার কারখানায় এ হামলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও তার পরবর্তী বড় অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিপজ্জনক পদার্থ লিক হওয়ার আশঙ্কায় আইডিএফ হোম ফ্রন্ট কমান্ড বীরশেবার দক্ষিণে অবস্থিত নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চলের নিকটবর্তী বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ির ভেতরে থাকার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

মন্ত্রী ইদিত সিলমান বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং পরীক্ষার নিরীক্ষার পর রাস্তাগুলো খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারখানা এবং সংলগ্ন প্ল্যান্টগুলো থেকে যে শ্রমিকদের দ্রুত সুরক্ষিত এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের সেই স্থানগুলো ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

আইডিএফ-এর মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি শিল্পাঞ্চলে আঘাত হানেনি, তবে এর একটি খণ্ডাংশ সেখানকার স্থাপনায় আঘাত হেনে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং তারা আগুন নেভানোর জন্য দমকল বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে। দমকল ও উদ্ধারকারী দলগুলো জানায়, তারা কারখানার ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিক মজুত ইউনিটগুলো সিল করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করেছে।

দমকল বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলের উপপ্রধান ইৎজিক লেভি বলেছেন, হামলার শিকার কন্টেইনারগুলোতে কীটনাশক ছিল।

সক্রিয় উপাদান ও ফসল সুরক্ষা সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আদামা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলে অবস্থিত তাদের মাখতেশিম প্ল্যান্টটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনা মালিকানাধীন সিনজেনটা গ্রুপের অংশ আদামা উল্লেখ করেছে, প্ল্যান্টটির ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।

জরুরি পরিষেবা ও পুলিশ প্রাথমিকভাবে জনসাধারণকে ওই এলাকার দিকে না যেতে অনুরোধ করেছিল।

কারখানাটিতে হামলার কিছুক্ষণ পরেই, ইরানের আরেকটি হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বীরশেবার একটি খোলা জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

বিস্ফোরণে আশপাশের বাড়িগুলোর জানালা ভেঙে যায়। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রায় ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির ক্ষতি গুরুতর, ফলে বাসিন্দারা ভবনগুলোতে থাকতে পারছেন না।
এক স্থানীয় বাসিন্দা দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে বলেন, হামলার সময় একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়েছিল। এতে কয়েকটা জানালা ভেঙেছে। কিন্তু সবকিছু ঠিক আছে।

মাগেন ডেভিড অ্যাডম জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ঝাঁকুনির কারণে সৃষ্ট ‘উড়ন্ত বস্তুর’ আঘাতে ১১ জন আহত হয়েছেন।

এমডিএ জানিয়েছে, তারা তীব্র উদ্বেগে ভুগতে থাকা আরও ২০ জনের চিকিৎসা করেছে এবং মোট ৩১ জনকেই সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দিনের শুরুতে জেরুজালেম এলাকা ও মধ্য ইসরায়েলে সাইরেন বাজিয়ে দেওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রটেকশনের মাধ্যমে একটি খোলা জায়গায় আঘাত হানতে বাধ্য করা হয়। ইরান থেকে দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া অষ্টম ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটিও প্রতিহত করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

Related posts

ফ্রান্সে প্রথম দফার পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ

Newsdesk

ইমরান খান ৮ দিনের রিমান্ডে

Newsdesk

সরকারে সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিলো দ্য ইকোনমিষ্ট

Newsdesk