LondonMirror
আন্তর্জাতিক

বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ অর্ধেক করলো ভারত

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার পড়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়ন সহায়তার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে মাত্র ৬০ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিলো ১২০ কোটি রুপি, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভারত বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ঠিক অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় দিল্লির অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবেই এই বাজেট সংকোচনকে দেখা হচ্ছে। এনডিটিভির খবর।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি রাজ্যসভায় জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়ে হামলার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন। এসব হামলাকে ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাজনৈতিক রেষারেষি হিসেবে বর্ণনা করার যে প্রবণতা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, ভারত তার কঠোর সমালোচনা করেছে। দিল্লির মতে, এ ধরনের বক্তব্য উগ্রবাদীদের উৎসাহিত করছে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বর্তমান বাংলাদেশের প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা দিল্লির উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত সুবিধা চালু হয়েছে এবং প্রায় দুই দশক পর পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর করাচি ও ঢাকার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলো সরাসরি ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে, যা গত কয়েক দশকে দেখা যায়নি।

বাজেটের অন্যান্য দিকের মধ্যে একটি বড় চমক ছিল ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ না রাখা। মূলত ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত কৌশলগতভাবেই এই অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভুটান বরাবরের মতোই ভারতের বৈদেশিক সহায়তার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। এবারের বাজেটে ভুটানের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ২,২৮৯ কোটি রুপি করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রবিবার (১ জানুয়ারি) তার নবম বাজেট পেশ করেন, যেখানে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Related posts

একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রস্তাব

Newsdesk

ইমরান খানের লংমার্চ ঠেকাতে পাকিস্তানে সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত

Newsdesk

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ

Newsdesk