পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয়টি ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বাহিনীটির পক্ষ থেকে। খবর প্রেস টিভি।
শুক্রবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪-এর ৮৪তম পর্যায়ের ধারাবাহিকতায় আইআরজিসির নৌ ইউনিটগুলো দুবাইয়ের উপকূল ও বন্দর এবং আল-শুয়ুখ বন্দরে মোতায়েন করা মার্কিন ও ইসরাইলিদের ওপর একটি হাইব্রিড অপারেশন পরিচালনা করেছে। এতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও তাদের যুদ্ধসরঞ্জাম গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই অভিযানে আমেরিকার ছয়টি ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি জাহাজকে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। এই হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কদর-৩৮০ ক্রুজ মিসাইলসহ বিভিন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিশোধমূলক এই হামলার পর তিনটি যুদ্ধজাহাজ সাগরে ডুবে গেছে এবং বাকি তিনটিতে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে।
পাশাপাশি, দুবাইয়ের উপকূলে অবস্থিত মার্কিন ড্রোন ইউনিটের কর্মীদের মিলনস্থল এবং একটি হোটেলের ওপর কামিকাজে (আত্মঘাতী) ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানের ফলে বিপুল সংখ্যক আমেরিকান সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং তাদের ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধজাহাজগুলো নিমজ্জিত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক নেতা ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক এবং বড় সামরিক অভিযান শুরু করে। এই আগ্রাসনের অংশ হিসেবে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যাতে প্রচুর প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
এরই প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি অবস্থান লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।