ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অবরোধ চ্যালেঞ্জ করে কোনো ইরানি জাহাজ সামনে এলে সেগুলোকে ধ্বংস করার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, অবরোধের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করা যেকোনো ইরানি ‘দ্রুত আক্রমণকারী জাহাজ’ দেখা মাত্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
অপরদিকে, শিপিং ট্র্যাকার ‘মেরিনট্র্যাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ট্র্যাকার মানচিত্রে তেল ও গ্যাস ট্যাংকারকে লাল এবং শস্য ও লোহার আকরিকবাহী ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ারকে সবুজ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, রোববার এই প্রণালী দিয়ে ৩৪টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা বন্দর বন্ধ হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ট্র্যাকার মানচিত্রে চলমান জাহাজগুলোকে ত্রিভুজাকার এবং নোঙর করা জাহাজগুলোকে বৃত্তাকার চিহ্নে দেখা যাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইটি সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ কার্যকর শুরু হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস একটি সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই এলাকায় চলাচলকারী জাহাজগুলো সামরিক উপস্থিতি এবং পরিদর্শনের সম্মুখীন হতে পারে।
ট্রাম্পের এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সমালোচনা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। এর জবাবে ট্রাম্প পোপকে পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়ঙ্কর বলে অভিযুক্ত করেন। তবে পোপ জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক করার কোনো ইচ্ছা তার নেই।
অন্যদিকে ইরানের সংসদ স্পিকার জানিয়েছেন, তেহরান কোনো হুমকির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি নিয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহান্তের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল লক্ষ্য বা ঘনঘন অবস্থান বদলানোকে দায়ি করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
