হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা- দুই সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
রোববার রাতে এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এ ধরনের কোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তারা দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেবে। খবর পার্সটুডের।
বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু শত্রুপক্ষের কর্মকর্তার মিথ্যা দাবির বিপরীতে, হরমুজ প্রণালী বুদ্ধিদীপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার অধীনে খোলা রয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় বেসামরিক জাহাজগুলো এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।
তবে বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, যেকোনো অজুহাত বা পরিচয়ে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া সামরিক জাহাজের কার্যক্রম যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই সতর্কতা এমন সময় আসে, যখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস ফ্রাঙ্ক পিটারসন এবং ইউএসএস মিখাইল মারফি—হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা নাকি প্রণালীকে সমুদ্রের মাইনমুক্ত করার বৃহত্তর মিশনের অংশ।
সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, আজ আমরা একটি নতুন নৌপথ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং খুব শিগগিরই এই নিরাপদ পথ সামুদ্রিক শিল্পের সঙ্গে শেয়ার করব, যাতে বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, কোনো মার্কিন সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা শুরু হয়েছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর ৪০ দিন পর।
যুদ্ধ চলাকালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ১০০ দফা সফল পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রতিপক্ষ ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারগুলোর চলাচলও বন্ধ করে দেয়, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।
এর ফলে সরু এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আজ লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।
ইরান সীমিত সংখ্যক বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজকে প্রণালীটি অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি, প্রণালি ব্যবহার করে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোর ওপর টোল আরোপের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।