LondonMirror
চট্রগ্রাম

জিয়াউর রহমানের খনন করা খাল ভরাট করতে গিয়ে আ.লীগ নেতা আটক

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া এলাকায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা খালের দুই মুখ অবরুদ্ধ করে বাঁধ নির্মাণ ও খাল ভরাটের ঘটনায় শফিকুর রহমান (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হাতেনাতে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ওমর সানী আকনের নেতৃত্বে অভিযানে আটককৃত নেতাকে নির্দেশ দেওয়া হয়, নিজ খরচে ভরাট করা খালের মাটি ফেরত দিয়ে অবৈধ বাঁধ অপসারণ করতে।

অভিযান চলাকালীন রোববার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল ৩টা পর্যন্ত শফিকুর রহমান নিজ খরচে বাঁধ অপসারণ ও খালের মাটি পুনরায় ভরাট করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুর রহমান চেচুরিয়া এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে এবং বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

জানা গেছে, ১৯৭৭-৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা চেচুরিয়ার খালটি বৈলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি বঙ্গোপসাগরে মিলিত হওয়ার একমাত্র পথ। সম্প্রতি শফিকুর রহমান খালে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষের জন্য মাটি কাটার কাজ শুরু করেন। খাল ভরাট ও খননের মাধ্যমে তিনি খালটি এক প্রকার দখল করার চেষ্টা করেন এবং উভয় পাড়ের কিছু খাস জায়গাও জবরদখল করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন গভীর রাতে অভিযানে নামে, যেখানে বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি টিমও অংশ নেয়।

সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ওমর সানী আকন বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে এক্সকেভেটরসহ শফিকুর রহমানকে মাটি কাটার সময় আটক করা হয়। তিনি দোষ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে এবং তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।”

উপজেলা প্রশাসন জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৈলছড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ দত্ত জানান, শফিকুর রহমান খালের তথ্য গোপন রেখে মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অনুমতি পাওয়ার আগেই খালে বাঁধ নির্মাণ ও উভয় পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করার চেষ্টা করেন। প্রশাসনের অভিযানের পর তিনি নিজ উদ্যোগে বাঁধ অপসারণ ও মাটি পুনরায় ভরাট করেছেন। এই কাজে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস

Related posts

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৪ স্থানে ভাঙন, ৩০ গ্রাম প্লাবিত

Newsdesk

যান্ত্রিক ত্রুটি, ২৮৭ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে ফিরলো বিমান

Newsdesk

চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের মঞ্চ ভাঙচুর

Newsdesk