রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে ‘ব্রেক ফেইল’ করে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রাবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের পল্টুনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে বৈরি আবহাওয়া দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি হঠাৎ ব্রেক ফেইল করে। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির পল্টুন থেকে খাড়াভাবে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাসটির সামনের অংশ প্রথমে পানিতে নিমজ্জিত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাসটি তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর বাসের কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ যাত্রীই ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ১০ থেকে ১২ বছরের একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটি একাত্তরকে জানায়, সে তার মায়ের সঙ্গে বাসে ছিলো। তবে তার মা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার জানান, বাসে আনুমানিক ৫০-৬০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য দুর্ঘটনস্থলে পৌঁছেছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’। এছাড়া মানিকগঞ্জ ও আরিচা থেকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ঢাকা সদর দপ্তর থেকেও বিশেষ ডুবুরি দল দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই নদী এলাকায় বৈরি আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। বর্তমানে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস বইছে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে জানা গেছে, পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ১১ জন জীবিত উদ্ধার করেছে। এছাড়া ডুবে যাওয়া বাসটি শনাক্ত করা গেছে। সেটিকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে হামজা।