LondonMirror
বাংলাদেশ

জ্বালানি তেলের মজুত কতদিনের, আসছে কত তেল?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণার পরও পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। অনেকে তেল না পেলে গণপরিবহনে চড়ে অফিস আদালতে যাতায়াত শুরু করেছেন। অনেকে আবার অতিরিক্ত তেল কিনে সংরক্ষণ করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এই যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার পেছনের মুল কারণ হিসেবে সবাই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে সামনে নিয়ে আসছেন। সবার ধারণা, এই কারণে আগামীতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই দাবি করছেন বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা। তবে বর্তমানে মজুত থাকা কোন জ্বালানিতে কতদিন চলবে তা নিয়েও অনেকের বিভ্রান্তি রয়েছে।

বিপিসির মজুতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে জ্বালানি তেলের সামগ্রিক মজুত সক্ষমতা প্রায় ৪৫ দিনের হলেও বাস্তবে বিভিন্ন জ্বালানির ক্ষেত্রে মজুদ পরিস্থিতি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি মজুদ পরিস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করছে।

দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি ডিজেলের চাহিদা চলতি মার্চ মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ টন। এদিকে, গত ২২ মার্চ পর্যন্ত হিসেবে দেশে ডিজেলের মজুত আছে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন, যা দিয়ে বর্তমান সরবরাহ অনুযায়ী প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

অকটেনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে অকটেনের মজুত রয়েছে ৯ হাজার ৮২৯ মেট্রিক টন, যা দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ৮ দিন চলবে।

পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন। দৈনিক সরবরাহ বিবেচনায় এ মজুত প্রায় ১১ দিন চলবে।

অপরদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের মজুত কিছুটা স্বস্তিদায়ক। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪১৪ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৮ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

বিমান চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের মজুত তুলনামূলক বেশি স্থিতিশীল। বর্তমানে ৩৬ হাজার ৬৬১ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে, যা প্রায় ২৪ দিনের জন্য যথেষ্ট।

কেরোসিনের মজুত ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিন চাহিদা মেটানো যাবে। মেরিন ফুয়েলের মজুত আছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা দিয়ে ৪৪ দিন সরবরাহ সম্ভব।

এছাড়া, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত আছে। দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ হাজার টন শোধনক্ষমতা বিবেচনায় এই মজুত দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না এলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

বিপিসির এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করে বলেন, চলতি মাসে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে গত রবিবার পর্যন্ত দেশে পৌঁছেছে ৮টি জাহাজ, সেখান থেকে প্রায় ২ লাখ টন তেল পাওয়া গেছে। আরও দুটি জাহাজ আসতে পারে বলে জানানো হলেও বাকি ৬টি জাহাজের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিপিসি জানিয়েছে, ঘাটতি কমাতে ভারত থেকে পাইপলাইনে ১০ হাজার টন তেল এসেছে, চলতি মাসে আরও ৫ হাজার টন আসতে পারে।

Related posts

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা এখন বেশি শক্তিশালী: প্রধান উপদেষ্টা

Newsdesk

পাক প্রধানমন্ত্রী‌কে এক হাজার কেজি আম উপহার শেখ হা‌সিনার

Newsdesk

নির্বাচনের দিকে সারাবিশ্ব তাকিয়ে আছে: সিইসি

Newsdesk