মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির চরম অস্থিরতার জেরে দেশে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বাড়ানো হলো উড়োজাহাজের জ্বালানি ‘জেট ফুয়েল’-এর দাম। মাসের শুরুতে লিটারে বেড়েছিল ১৭ টাকা, এবার বেড়েছে ৯০ টাকা। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানির দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতিই দ্বিতীয়বার দর সমন্বয়ের কারণ বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দর ঘোষণা করেছে, যা মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। মে মাস থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করার নিয়ম থাকলেও এক মাসের মধ্যে দুই দফা দাম বাড়ানোর ঘটনা এবারই প্রথম।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল কেন্দ্রিক যুদ্ধের বিস্তৃতি ও তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
বিশেষ করে ইরান কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার ফলে এশিয়ায় জেট ফুয়েলের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে এবং প্রতি ব্যারেলের দাম ১৬৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে লিটার প্রতি দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। মাসের শুরুতে এই দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা এবং ৮ মার্চ তা ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে মার্চ মাসেই অভ্যন্তরীণ রুটে এই জ্বালানির দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও প্রতি লিটারের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৭১ টাকারও বেশি।
আগে জেট ফুয়েলের দাম ঠিক করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনের পর গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।