যুক্তরাজ্যে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৬০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে বিলম্বিত হয়েছে আরও কয়েকশ ফ্লাইট।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (এনএটিএস) এর ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হিথ্রো, গ্যাটউইক, স্ট্যানস্টেড, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম ও লন্ডন সিটি বিমানবন্দরসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এর প্রভাব পড়ে।
এনএটিএস জানায়, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে সমস্যাটি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করে একটি সমাধান কার্যকর করেছেন এবং সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। তবে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে জানানো হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে অন্তত ৬২৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট, কেএলএম ও লুফথানসাসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এনএটিএস জানিয়েছে, আকাশপথ খোলা রয়েছে এবং কিছু ফ্লাইট চলাচল করছে। তবে সৃষ্ট জটের কারণে স্বাভাবিক সূচিতে ফিরতে সময় লাগছে। এ ঘটনায় যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
হিথ্রো, গ্যাটউইক ও স্ট্যানস্টেডের পাশাপাশি এডিনবার্গ, গ্লাসগো, অ্যাবারডিন, লুটন ও বার্মিংহাম বিমানবন্দরেও বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দরও জানিয়েছে, এনএটিএসের সমস্যার কারণে তাদের আসা-যাওয়া করা কিছু ফ্লাইটে প্রভাব পড়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনস জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য রুটেও এর প্রভাব পড়েছে।
ঘটনার কারণে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় ব্যাপক জট তৈরি হয়েছে এবং বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের প্রভাব পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।