মাসের পর মাস শ্রম, ঋণ-ধার করে করা আবাদ। ফসল উঠতে শুরু করেছিল, প্রতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছিল ৪০ থেকে ৫০ মণ পটল। সেই ফসল বিক্রির আয় দিয়ে সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা ও দেনা পরিশোধের স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা।
কিন্তু এক রাতেই তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেছেন ১২ কৃষক।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রায় ১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দিয়েছে। এতে ১০-১২ জন কৃষকের প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। এ ঘটনায় কয়েকটি কৃষক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
কৃষকরা জানান, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কে বা কারা জমিতে ঢুকে কৃষকদের পটলগাছগুলো কেটে দেয়। পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে তারা দেখতে পান, বিস্তীর্ণ এলাকার পটলগাছ কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও গোড়া থেকে গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও পুরো লতা মাটিতে লুটিয়ে রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, কয়েকটি জমিজুড়ে কাটা পটলগাছ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। কয়েক দিন আগেও যেসব জমি ছিল সবুজে ভরা, সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে কেবল ধ্বংসের চিহ্ন। ফলন আসতে শুরু করায় কৃষকদের মধ্যে ছিল বাড়তি আশাবাদ; কিন্তু গাছ কেটে দেওয়ায় সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে পটল চাষ করেছি। সার, ওষুধ, শ্রমিকসহ সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ফসল বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি দেনা পরিশোধের আশা ছিল; কিন্তু এক রাতেই সব শেষ করে দিয়েছে। এখন কিভাবে ঘুরে দাঁড়াব, বুঝতে পারছি না।
আরেক কৃষক ইসরাফিল বলেন, এই ফসলই ছিল আমাদের শেষ সম্বল। গাছে ফলন আসছিল এবং পটল বাজারে বিক্রিও শুরু হয়েছিল। সকালে এসে দেখি সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য, প্রতি সপ্তাহে এসব জমি থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পটল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। ফলে গাছগুলো নষ্ট হওয়ায় শুধু চলতি মৌসুমের বিনিয়োগই নয়, সামনে পাওয়ার কথা থাকা আয় থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে পটলগাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং কী কারণে ঘটিয়েছে, সেই বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তাও চেয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।