ইসরাইলের বহুল আলোচিত সাধারণ নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল এগিয়ে থাকলেও ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে এখনো পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। বুথ ফেরত জরিপ বলছে, তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটও সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট না হওয়ায় একক কোনো জোট সরকার গঠন করতে পারবে নাকি ইসরাইল আবার নির্বাচনের মুখোমুখি হবে, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

৮৫ শতাংশ ভোট গণনার হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-রক্ষণশীল ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি মিত্ররা নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের ‘ইয়েশার’ পার্টি এবং তার অধীনস্থ ইহুদি বিরোধী জোট পাচ্ছে ৪৮টি আসন।
তবে এই নির্বাচনে অভূতপূর্বভাবে ১৯টি আসনে জয় পাওয়ার পথে থাকা আরবদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের ভাগ্য নির্ধারণে মূল অনুঘটক বা ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারে। যদিও একটি মাত্র দল ছাড়া বেশিরভাগ ইহুদি রাজনৈতিক দলই নিশ্চিত করেছে যে, তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোট বাঁধবে না।
এদিকে সেনাসদস্য এবং কূটনীতিকদের চার লাখ ত্রিশ হাজার থেকে প্রায় চার লাখ ৮০ হাজার অনুপস্থিত বা ‘অ্যাবসেন্টি’ ব্যালট গণনা এখনো বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল আসতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। ভোট গণনা চূড়ান্ত হলে প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি বেছে নেবেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন ব্যর্থ হলে দেশটিকে ফের পরবর্তী নির্বাচনের দিকে হাঁটতে হতে পারে। জেরুজালেমে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট হারজোগ গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থাৎ ৭৭.৭ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতির প্রশংসা করে একে ইসরায়েলের গণতন্ত্রের এক অনন্য উদাহরণ বলে আখ্যা দেন।
রাজনীতির দুই মেরুর দুই শীর্ষ নেতাই নিজেদের বিজয়ী হিসেবে দাবি করছেন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট দাবি করেছেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং ব্যর্থতার জোট জনগণের আস্থা হারিয়েছে। অন্যদিকে লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর ডানপন্থী জোট বড় বিজয়ের দিকে যাচ্ছে এবং জায়নবাদী-বিরোধী আরব দলগুলোর সমর্থ নিয়ে সরকার বানিয়ে দেশের ক্ষতি করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
তবে বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান বর্ণবাদ দূর করে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে নেতানিয়াহু জোটকে হঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ ও ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর প্রধানরাও নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধীদের সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা, লেবানন ও ইরানে শুরু হওয়া বিধ্বংসী যুদ্ধ ও উত্তেজনার পর এটিই ছিল ইসরাইলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী একটি নির্বাচন ছিল, যার সঙ্গে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়, আঞ্চলিক যুদ্ধ, আল্ট্রা-অর্থোডক্স যুবকদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ, বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গভীরভাবে জড়িত।
তথ্যসূত্র: বিবিসি