নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন চালকসহ অন্তত ১৪ জন। ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার ভোরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের বিকট শব্দে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকেই ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে নাটোর সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত অন্তত ৩০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার অধিবাসী বাসের ড্রাইভার মো. সোহেল রানা, রাজশাহীর বাগমারার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ৮ বছরের শিশু আহুদিয়া এবং শরীয়তপুরের জাজিরার সামাদ (৭০), জুয়েল (৪০), জহুর উদ্দিন, শামলাল মোল্লা (৪৫) ও কাশেম (৩৫) প্রমুখ।
নাটোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বেশ কয়েকজন রোগী ভর্তি হন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করতে গিয়েই এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বেপরোয়া গতি ও অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিংকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।
পরিদর্শন শেষে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।