কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ির আঙিনা থেকে বোমাসদৃশ বস্তু, বারুদ, পেট্রল ও ইলেকট্রনিক সার্কিট উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির প্রবেশপথের পুলিশ বক্স থেকে প্রায় ১০ হাত দূরে একটি নারিকেলগাছের গোড়া থেকে সাদা ব্যাগে রাখা এসব বস্তু উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের বিশেষ দল সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন। তিনি জানান, উদ্ধার করা বস্তুগুলোর মধ্যে একটি পেট্রল বোমাসদৃশ বস্তু, দুটি বারুদ, দুই লিটার পেট্রল ও একটি ইলেকট্রনিক সার্কিট ছিল। সকাল ৮টার দিকে পুলিশের বিশেষ দল সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার ছিল মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস। এ উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করেছে। তিরোধান দিবস ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও আখড়াবাড়িতে সমবেত হয়েছেন বাউল, সাধক ও লালনভক্তরা। তাদের নিরাপত্তায় সিসিটিভি স্থাপনসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।
শনিবার বিকেলে স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। রোববার ছিল আয়োজনের দ্বিতীয় দিন। এদিন দুপুরে পুণ্যসেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হলেও আখড়াবাড়িতে লালনভক্তদের উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ বক্সের কাছ থেকে বোমাসদৃশ বস্তুসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আখড়াবাড়ি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার স্মরণোৎসবের শেষ দিন। সন্ধ্যায় আলোচনা সভা এবং রাতভর লালনের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিন দিনের আয়োজন শেষ হওয়ার কথা। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে দুর্বৃত্তরা আখড়াবাড়ির আঙিনায় বোমাসদৃশ বস্তু রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেগুলো উদ্ধার করে সোমবার সকাল নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলছে। স্মরণোৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।