শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাতে নাঈম হাসান বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমার ফ্লাইট দেরি হওয়ায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাই রাত সোয়া ১১টায়।
তিনি আরো বলেন, ‘পরে পুলিশ আমাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে খুলশী থানায় নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে ওসির কক্ষে দাঁড় করিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে বলা হয়। পরে কারো ফোন আসার পর আমাকে বসতে বলা হয়। মানুষ আমাকে চিনত বলেই আজ বেঁচে গেছি। আমার জায়গায় কোনো সাধারণ মানুষ থাকলে তার কী হতো? তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হতো, সেটি কেউ জানত না। একজন সাধারণ নাগরিক যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।’
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুলিশের ভুল স্বীকার করে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু অসঙ্গতি ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব বিষয় নিশ্চিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি তার কর্মকাণ্ডের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিলেন নাঈম। পতেঙ্গা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠে লালখান বাজার এলাকায় নেমে আরেকটি ফ্লাইওভারে ওঠার কথা ছিল তার। দুই ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি এলাকায় পুলিশ তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খুলশী থানার ওসি আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এক কিশোর গ্যাং লিডার ‘বিহারী বগা’কে দখল-বাণিজ্য, মাদক কারবারসহ নানা অপকর্মে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলেছেন মহানগর বিএনপির নেতারা। এবার তার বিরুদ্ধে যুক্ত হলো ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ।