স্পোর্টস ডেস্ক :
২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হতেই বড় দুই অঘটন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে, আর আফ্রিকার আরেক প্রতিনিধি মরক্কোর কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে নেদারল্যান্ডসের। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আন্ডারডগদের চমকে ভরা এই আসরে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে এবার কি একই ভাগ্য অপেক্ষা করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্যও?
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছে জার্মানি। বস্টনে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ইউরোপের পরাশক্তিরা। হুলিও এনসিসো প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দিয়েছিলেন, পরে কাই হাভার্টজ সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে জনাথন তাহর একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। এরপর টাইব্রেকারে গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন এবং জোসে কানালের জয়সূচক শটে ইতিহাস গড়ে প্যারাগুয়ে। এটিই ছিল বিশ্বকাপে জার্মানির প্রথম টাইব্রেকার পরাজয়।
অন্যদিকে মরক্কোও আবারও প্রমাণ করেছে, ২০২২ সালের সেমিফাইনাল কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তারা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও নকআউটে নিজেদের শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে। আফ্রিকার দলগুলোর সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং মানসিক দৃঢ়তা এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই দুই ফলের পর স্বাভাবিকভাবেই নজর যাচ্ছে আর্জেন্টিনার দিকে। রাউন্ড অব ৩২-এ লিওনেল স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। নামের বিচারে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপদেশটি আন্ডারডগ হলেও এবারের বিশ্বকাপে তারা ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বে স্পেনকে গোলশূন্য ড্র করিয়েছে, সৌদি আরবকে হারিয়েছে এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, নকআউট পর্বে ফেভারিট তকমা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। ৯০ মিনিটে একটি ভুল, একটি সেট-পিস কিংবা একজন গোলরক্ষকের অসাধারণ পারফরম্যান্স পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে দিতে পারে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির বিদায়ই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বলের দখল বেশি ছিল, সুযোগও বেশি তৈরি করেছিল জার্মানরা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে বিদায় নিয়েই।
অবশ্য আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাসের জায়গাও কম নয়। গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে তারা নকআউটে উঠেছে। লিওনেল মেসি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এবং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এগিয়ে আছেন। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো ডি পলের সমন্বয়, সঙ্গে শক্তিশালী রক্ষণ সব মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়ে তুলেছেন স্কালোনি।
তবু এই বিশ্বকাপ বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, নাম কিংবা ইতিহাস কোনো ম্যাচ জেতায় না। জার্মানি বিদায় নিয়েছে প্যারাগুয়ের কাছে, নেদারল্যান্ডসকে থামিয়েছে মরক্কো। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যতই ফেভারিট হোক, সামান্য আত্মতুষ্টিও বড় মূল্য ডেকে আনতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যেন একটি বার্তাই দিচ্ছে এখানে আর ছোট দল বলে কিছু নেই। আর সেই কারণেই জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিদায় আর্জেন্টিনার জন্য শুধু দুটি ফল নয়, বরং একটি বড় সতর্কবার্তা।