নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের গোলশূন্য লড়াই শেষে স্নায়ুক্ষয়ী পেনাল্টি শুটআউটে কলম্বিয়াকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। আর এই জয়ের নায়ক রুবেন ভার্গাস, যার শেষ পেনাল্টি কিকেই নিশ্চিত হয় সুইসদের শেষ আটের টিকিট।
আগামী শনিবার কানসাসে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যারা দিনের অন্য ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে।
সুইসদের জন্য এই জয় যেন একটা যুগের অবসান। সেই ১৯৫৪ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজনের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল তারা। গত তিনটি বিশ্বকাপেই তারা শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিয়েছিল, তবে এবার আর ভাগ্য তাদের সাথে প্রতারণা করেনি।
অথচ ম্যাচের আগে ইনজুরি জট লেগেই ছিল সুইস শিবিরে। সোমবার অনুশীলনে চোট পেয়ে ছিটকে যান তরুণ মিডফিল্ডার জোহান মাঞ্জাম্বি। এমনকি দলের তারকা রুবেন ভার্গাসও চোটের কারণে সোমবারের অনুশীলন অধরাই রেখেছিলেন। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত সময়ে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে তাকে বেঞ্চ থেকে মাঠে নামান সুইস কোচ, আর তাতেই কেল্লা ফতে।
বিসি প্লেসের গ্যালারিতে তখন কানায় কানায় পূর্ণ হলুদের সমুদ্র। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়াম গর্জে উঠছিল কলম্বিয়ার সমর্থনে। কিন্তু টাইব্রেকারে গিয়েই যেন সব আলো কেড়ে নিলেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।
কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডেভিনসন সানচেজের নেওয়া পেনাল্টি শটটি যখন ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, তখনই স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। এরপর কুচো হার্নান্দেজের শটটি বাজপাখির মতো রুখে দিয়ে সুইজারল্যান্ডকে টাইব্রেকারে চালকের আসনে বসিয়ে দেন গোলরক্ষক কোবেল।
দুই দলের ফুটবল শৈলী ছিল একদম ভিন্ন মেরুর। কলম্বিয়া যেখানে প্রথম থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক পসরা সাজিয়ে, সেখানে সুইসরা খেলছিল নিখুঁত ও সুসংগঠিত পরিকল্পনায়। বল দখলের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ড সামান্য এগিয়ে থাকলেও দুই দলই গোলমুখে সমান দুটি করে শট নিতে পেরেছিল।
২০১৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা কলম্বিয়া ২০২২ সালের আসরে তো কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি। এবার চেনা ছন্দে ফিরে শেষ আটে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল রদ্রিগেজদের উত্তরসূরিদের সামনে। কিন্তু মাঠের বাইরে যত গর্জনই থাকুক না কেন, টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে ঠান্ডা মাথার সুইজারল্যান্ডের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হলো লাতিন আমেরিকার দলটিকে।
এবার দেখার বিষয়, শনিবার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই সুইস রক্ষণভাগ কতটা দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারে!