একসময় মনে হয়েছিল ফুটবলের মাঠে আর হয়তো ফেরা হবে না। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে ফিরে আসা সেই রাউল হিমেনেজ এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে মেক্সিকোর নায়ক। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করে নিজের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্পে নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় মেক্সিকো। দলের দ্বিতীয় গোলটি আসে হিমেনেজের পা থেকে। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রসকে দুর্দান্ত হেডে জালে পাঠান তিনি। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ভেসে গেলেও মুহূর্তটি তার জন্য ছিল গভীর আবেগের।
গোল উদযাপনের সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে সম্প্রতি প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করেন হিমেনেজ। দর্শকভর্তি অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে সেই দৃশ্য অনেককেই আবেগাপ্লুত করে। সতীর্থদের শুভেচ্ছা গ্রহণের সময়ও তার চোখে আনন্দ আর আবেগের মিশ্র ছাপ স্পষ্ট ছিল।
এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের গোলসংখ্যা ৪৬-এ উন্নীত করেন ৩৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। ১২৫ ম্যাচে করা এই গোল তাকে মেক্সিকোর সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে গেছে।
তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে কঠিন এক সংগ্রামের গল্প। ২০২০ সালের নভেম্বরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে ভয়াবহ এক সংঘর্ষে গুরুতর মাথার চোট পান হিমেনেজ। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজের সঙ্গে আকাশে বলের লড়াইয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।
পরবর্তীতে জানা যায়, তার মাথার খুলি ভেঙে গিয়েছিল। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তার পেশাদার ক্যারিয়ার হয়তো শেষ হয়ে গেছে।
দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফেরেন হিমেনেজ। প্রায় আট মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরে আবার গোলের দেখা পান। এরপর ধারাবাহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় দলে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেন তিনি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও এই ম্যাচটি ছিল তার জন্য বিশেষ। আগের তিনটি বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থাকলেও কখনও শুরুর একাদশে সুযোগ পাননি। সব মিলিয়ে ছয়বার বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা ছিল তার। অবশেষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ শুরুর একাদশে নেমেই গোল করে স্মরণীয় এক মুহূর্ত তৈরি করলেন মেক্সিকোর এই তারকা।