খেলাসর্বশেষ

গোল-অ্যাসিস্টে মহাকাব্যের সমাপ্তি

গোল, দুটি সহায়তা আর আবেগঘন বিদায়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে বেনিনের বিপক্ষে একটি গোল ও দুটি গোলে সহায়তা করেছেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। তাঁর নৈপুণ্যে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।

বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচ শুরুর আগেই তৈরি হয় বিদায়ের আবহ। মাঠে মেলে ধরা হয় বিশাল ‘ধন্যবাদ’ লেখা ১০ নম্বর জার্সি। ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে এক মিনিট ধরে মেসিকে সম্মান জানায় পুরো স্টেডিয়াম। এ সময় গ্যালারিজুড়ে শোনা যায় শুধু ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাননি মেসি। সপ্তম মিনিটে তাঁর দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকেও গোলের চেষ্টা করেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল থেকে ভলি করেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।

বিরতির পর অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

এরপর ৬০তম মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে গোল করেন নিকো পাজ। বাঁ দিক থেকে মেসির নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণ করে বাঁকানো শটে বেনিনের জালে বল পাঠান পাজ। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সতীর্থকে গোল করিয়ে আর্জেন্টিনার ব্যবধান বাড়ান মেসি।

এর ১১ মিনিট পর আসে বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। বেনিনের এক খেলোয়াড়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১তম মিনিটে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে বিদায়ী ম্যাচে নিজের গোলের খাতা খোলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তাঁর ১২৬তম গোল।

শেষ দিকেও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের মধ্যে পেয়েও বাইরে মেরে দেন তিনি। গোলটি হলে বিদায়ী ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স আরও বর্ণিল হয়ে উঠত।

ম্যাচের আগে নিজের বিদায় নিয়ে আবেগঘন বার্তা দেন মেসি। তিনি বলেন, “আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।”

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলায় মেসির ক্যারিয়ারে এসেছে হতাশা, ব্যর্থতা, শিরোপার অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের মতো সাফল্য। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পায়।

এরপরও আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা। শেষ পর্যন্ত নীল-সাদা জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটিও চেনা ছন্দে শেষ করলেন মেসি—গোল ও গোলে সহায়তায়। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আর্জেন্টিনার হয়ে এক কিংবদন্তির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

সাম্প্রতিক সংবাদ

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি আজ

Newsdesk

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির যত অর্জন

Newsdesk

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠক

Newsdesk