ঢাকাসর্বশেষ

চকবাজারের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সময় লাগবে: ফায়ার সার্ভিস

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটরা সংলগ্ন এসি মসজিদের পাশে ‘মনজুর খান প্লাজা’ নামের সাততলা ভবনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে ভবনটির ভেতরে আগুন আর না থাকলেও পুরোপুরি নির্বাপণ ও নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে ভবনটির ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত একটি দোকান ও প্রসাধন সামগ্রীর গুদাম থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ভয়াবহ এই আগুন পরবর্তীতে পাশেই থাকা আরেকটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে একযোগে কাজ শুরু করে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ঢাকার সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তাদের বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

তিনি বলেন, সরু রাস্তা, গাড়ি আসতে দেরি, ধোঁয়া বের হওয়ার রাস্তা না থাকা এবং শার্টার ভাঙতে বেগ পেতে হয়েছে। পাশাপাশি পানির উৎস কম ছিলো। ভেতরে এখন আগুন নেই, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগবে।

তিনি আরও জানান, আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, মনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পানি বন্ধ করলেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। ভেতর থেকে এখনো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি দিয়ে আগুন পুরোপুরি নির্বাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদশীরা বলছেন, ভবনের পাঁচ, ছয় ও সাত তলায় থাকা গোডাউন পুড়ে গেছে। যেখানে বেশির ভাগই ছিলো লেদারের ব্যাগ, ছাতা, কসমেটিকস সামগ্রী। ব্যবসায়ীরা জানায়, অন্তত ২০০ গোডাউন ছিলো এই মার্কেটে। যা পুড়ে ক্ষতি হয়েছে কয়েকশো কোটি টাকার। আগুন সঠিক কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল পাঁচটা চার মিনিটে সংবাদ পাওয়ার পর স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার হলেও পুরান ঢাকার চরম যানজট এবং সরু গলি পেরিয়ে প্রথম গাড়িটি পৌঁছাতে সময় লাগে। ভবনের ভেতরে প্রসাধন পণ্য, কেমিক্যাল বা প্লাস্টিক জাতীয় উপাদান থাকায় প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তোলে।

দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় আগুন নেভানোর জন্য তাৎক্ষণিক কোনো স্থায়ী বা প্রাকৃতিক পানির উৎস না থাকায় বহু দূর থেকে বিশেষ হোসপাইপ টেনে এবং ওয়াটার টেন্ডারের মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভবনটির ষষ্ঠ তলায় ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনী সামগ্রী, ছাতা ও গ্যাসলাইটার পাইকারি বিক্রি ও গুদামজাত করা হতো। এই ভবনের তৃতীয় তলায় পূবালী ব্যাংকের একটি শাখাও রয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক ধারণা, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সংবাদ

জার্মানির নুরেমবার্গ বিমানবন্দরে হঠাৎ স্থগিত ফ্লাইট চলাচল!

Newsdesk

‎সাবিলা নূরের সংসারে ভাঙনের গুঞ্জন, ‘রকস্টার’ ঘিরে নতুন আলোচনা

Newsdesk

বিশ্বের উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে ২০২৬

Newsdesk