রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এ হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ এলাকায় জমির মালিকানা ও যাতায়াত নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষ নিজেদের জমিতে প্রবেশ করতে না পারায় লোকজন নিয়ে সেখানে যায়। দুই পক্ষের এই বিরোধের মধ্যেই হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও।
সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক জানান, জমিতে প্রবেশ করতে না পারা পক্ষটি লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে তারা ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হামলায় তাঁদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
এদিকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন সালমান মুক্তাদির।
তিনি জানান, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ, শুটিংয়ের সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংরক্ষিত ছিল। হামলার পর এসবের অনেক কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর পরিস্থিতি তুলে ধরে সালমান বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’
তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়; দেশের সৃজনশীল শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মক্ষেত্র। এমন আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সালমান মুক্তাদির। নিজের প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি এ ঘটনাকে চাঁদাবাজি হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সালমান প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও পরিশ্রমে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি এভাবে ধ্বংস করা হলো।
তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে পুলিশ জমিসংক্রান্ত বিরোধের কথা জানালেও হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
স্টুডিওতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও কাজ বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা কাজ চালিয়ে যাবেন।
সালমান জানান, স্টুডিওটির সঙ্গে অনেক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান জড়িয়ে রয়েছে। পাশাপাশি এটি ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের সৃজনশীল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
হামলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকেও নিজের সৃজনশীল কাজ অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।
হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগে মামলা করার কথা জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া স্টুডিওর মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়ও নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।