লন্ডন মিরর স্পেশাল

জেনারেল মাসুদ সরিয়েছে আড়াই বিলিয়ন ডলার

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং তার সহযোগীদের গড়া অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কয়েকটি স্তরে কাজ করত। বাংলাদেশে দুই হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও, এই সিন্ডিকেট মালয়েশিয়া সরকারের ওপর কৌশলগত প্রভাব খাটিয়ে ১০০টি এজেন্সিকে (সংস্থা) শ্রমিক পাঠানোর অনুমতি দিয়ে একচেটিয়া বাজার তৈরি করে। ফলে সাধারণ শ্রমিকদের এই নির্দিষ্ট এজেন্সিগুলো ছাড়া বিদেশে যাওয়ার আর কোনো পথ ছিল না বলে উঠে এসেছে মামলার তদন্তে।

সিন্ডিকেটটি এভাবে মোট আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৪-২৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। সামগ্রিকভাবে এই সিন্ডিকেট বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার (১০ হাজার কোটি টাকার বেশি) দেশের বাইরে সরিয়ে ফেলেছে বলে ধারণা করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত মালয়েশিয়া যাওয়ার সর্বোচ্চ খরচ ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু এই সিন্ডিকেট প্রতি শ্রমিকের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করত।

তদন্তে দেখা গেছে, নির্ধারিত ফি ছাড়াও ‘সিন্ডিকেট ফি’ বাবদ জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা করে নেওয়া হতো। এছাড়া পাসপোর্ট, মেডিকেল টেস্ট এবং কাপড়ের নামে আরও অতিরিক্ত ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করা হতো।

তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, সিন্ডিকেটটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ‘বোগাস’ বা অস্তিত্বহীন নিয়োগকর্তাদের নামে ভুয়া কোটা তৈরি করত। এর ফলে শ্রমিকরা মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর প্রায়ই কাজ খুঁজে পেতেন না এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হতেন।

মামলাসংশ্লিষ্ট আদালতের কাগজপত্র থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা এই অতিরিক্ত টাকার একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে—প্রধানত মালয়েশিয়ায় পাচার হতো। কেবল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ ১০০ কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাচার করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।

এই চক্রে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা জড়িত ছিলেন। তারা তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং সাধারণ শ্রমিকদের জিম্মি করে এই বিপুল অর্থ আদায় করতেন।

মোটকথা, সিন্ডিকেটটি মনোপলি বাজার তৈরি, সরকারের নির্ধারিত হারের চেয়ে ৫-৬ গুণ বেশি টাকা আদায় এবং ভুয়া কোটার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রতারিত করে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করে। সিন্ডিকেটটির প্রধান হোতা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে এটিসহ মোট ১২টি মামলার আসামি। সবশেষ বৃহস্পতিবার (৮ মে) তাকে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ চালানোর একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গ্রেপ্তারের আদেশ দেন তদন্ত সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই মামলায় তিনি এক দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ড শেষে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

নজরদারিতে সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াত, গ্রেপ্তার হতে পারে ছেলেও

Newsdesk

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার বিদেশ সফর কতটা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য?

Newsdesk

*নিরাপত্তা বাহিনী, বিচার ও তলোয়ারবাজ রাজনীতি*

Newsdesk