রাজনীতি

নির্বাচনী পথে হাঁটছে বিএনপি

৭ বছর পর দলের বর্ধিত সভা করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল এবং মাঠ প্রাঙ্গণে এই বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সভার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, বর্ধিত সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সাংগঠনিক অবস্থা উঠে আসবে। একই সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারা দেশের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। তার বক্তব্যে সারা দেশে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেমন কঠোর নির্দেশনা থাকবে, তেমনি আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে জানাবেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে বিএনপির বর্ধিত সভা ডেকেছিলেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর তিনদিন পর ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান।

ওই বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেয় বিএনপি। কিন্তু দিনের ভোট রাতে হয়ে গেছে বলে অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। যদিও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রথমে সুলতান মনসুর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর বিএনপিরও দুজন সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ গ্রহণ করলে পরে বাধ্য হয়ে সবাইকে শপথ নেওয়ার অনুমতি দেয় বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনে জয়লাভের পরও শপথ গ্রহণ করেননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বর্ধিত সভায় দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।’

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির জানান, ‘জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল এবং মাঠ প্রাঙ্গণে বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। বর্ধিত সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সব সম্পাদক ও সদস্য, মহানগর ও জেলার সব থানা, উপজেলা, পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবরা উপস্থিত থাকবেন।’

একাধিক বিএনপি নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ৬ দিনব্যাপী বিশেষ সভা হয়েছিল। যেহেতু তখনকার পরিস্থিতি বিএনপির অনুকূলে ছিল না, তাই সেই সময় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সারাদেশের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাগ-ভাগ করে সভা অনুষ্ঠিত হয়। তখন নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছিল নেতাকর্মীরা এবং নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। এখন আবার দেশের পরিবর্তিত নতুন পরিস্থিতিতে সব নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভা করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতারা কী ভাবছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের ভাবনা কী, তাদের ভাবনার সঙ্গে কেন্দ্রের ভাবনার কতটুকু মিল রয়েছে তা ওঠে আসবে সভায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের বর্ধিত সভায় ভিন্ন মাত্রা থাকবে। দেশের বর্তমান রাজনীতিতে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মাঠে নেই। কিন্তু নতুন বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এক সময়ের মিত্র দল বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। অন্যদিকে সরকারি সহায়তায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে নতুন দল ঘোষণার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পাবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বর্ধিত সভার একটি নির্দিষ্ট সময় সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিবের বক্তব্যের সময়টুকু মিডিয়া কভারেজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাকিটা সময় শুধু দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। অর্থ্যাৎ সভা হবে অভ্যন্তরীণ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুযোগ পাবে মিডিয়া।

বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেতাকর্মী ছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং যারা মনোনয়নের জন্য প্রাথমিক চিঠি পেয়েছিলেন তারাও সভায় উপস্থিত থাকবেন। সেই নির্বাচনে যারা প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন, এবার তাদেরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হবে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই

Newsdesk

নিজামীর ছেলে যোগ দিলেন এনসিপিতে

Newsdesk

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নুসরাতকে বিজয়ী ঘোষণা

Newsdesk