রাশিয়া থেকে আমদানি করা পারমাণবিক জ্বালানির পঞ্চম চালান এবার প্রচলিত পরিবহনপথের বাইরে নতুন রুটে পৌঁছেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু হয়ে এ জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে ইউরেনিয়ামবাহী চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় পুরো পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে গাড়িবহরটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পদ্মা সেতু অতিক্রম করে। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে এই পথ আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি।
এর আগে প্রতিটি চালান ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া এবং পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হতো। তবে এবার গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান কর্মসূচির কারণে ওই পথ এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস জানান, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প রুট নির্বাচন করা হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে। মোট নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটেই ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।
এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। পরীক্ষাগুলো সফল হলে কেন্দ্রটির জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় সিনক্রোনাইজেশন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি নভেম্বরেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।