পানামার দক্ষিণ উপকূলে ৭.৬ মাত্রার এক তীব্র ও শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হওয়া এই শক্তিশালী কম্পনে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.৭ থেকে ৮.০ হতে পারে বলে ধারণা করলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৭.৬ মাত্রা নিশ্চিত করে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভবন ধসে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন এই সংস্থাটি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আসা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় রাজধানী পানামা সিটিসহ অন্যান্য শহরের আতঙ্কিত মানুষজন তড়িঘড়ি করে বহুতল ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে অবস্থিত পেনোনোমে শহরে ঐতিহাসিক একটি গির্জার চূড়া আংশিক ধসে পড়েছে এবং একাধিক ভবনের সামনের অংশ পুরোপুরি চুরমার হয়ে গেছে।

অন্যদিকে জনপ্রিয় পর্যটন শহর প্লেয়া ভেনাওয়ে একটি বহুতল ভবন ভেঙে পড়ে নিচে পার্ক করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় পানামা খালের সেন্টেনিয়াল ব্রিজের সাসপেনশন কেবলগুলো বিপজ্জনকভাবে দুলতে দেখা যায়। তবে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, খালের যাবতীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি পরিদর্শনে বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানামা প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
- যোগাযোগ ও পরিবহন স্তব্ধ: দুর্ঘটনা এড়াতে রাজধানী পানামা সিটির পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেমের দুটি মেট্রো লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্টেশনগুলো থেকে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
- বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পানীয় জল সংকট: তীব্র কম্পনের ফলে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি পানিশোধন প্ল্যান্টের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে সাময়িক খাবার পানির সংকট তৈরি হয়েছে।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী সকল স্কুল-কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ও কার্যক্রম সারাদিনের জন্য বাতিল ঘোষণা করেছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো দেশবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী প্রেরণে সব সম্পদ নিয়োজিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সুনামির পূর্বাভাস জারি করা হলেও পরবর্তীতে মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা জানায় যে, বর্তমানে আর কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই। মূল কম্পনের পর উপকেন্দ্রের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি আফটারশক বা মৃদু কম্পন অনুভূত হতে থাকে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর লাতিন আমেরিকায় ধারাবাহিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের এটিই সর্বশেষ আঘাত। এর আগে গ্রীষ্মকালে ভেনিজুয়েলায় দুই দফায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৬,৪০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং পাশ্ববর্তী কলম্বিয়ায় ভূকম্পনে প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: সিএনএন