শিক্ষাখাতে অংশীদারিত্ব এবং গুণগত মানোন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, ব্রিটিশ হাই কমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা। এ সময় শিক্ষা খাতের গুণগত মানোন্নয়ন এবং আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বারিধারাস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষা খাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় পরিচালিত হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিনিয়োগকারী আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
সভায় দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া সভায় শিক্ষার সার্বিক মান ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিতে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ বাস্তবায়নের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বাধ্যতামূলক কারিগরি ল্যাব চালু, পরীক্ষাগার সুবিধার আধুনিকায়ন, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইকোসিস্টেম অফিস স্থাপন, স্টার্টআপ ফান্ড গঠন, উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদার, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অফিস চালু এবং জব ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার্থী ঋণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
বৈঠকে হিট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের অভিজ্ঞতা, প্রকল্পটির প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক, ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ড, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট টি এম আসাদুজ্জামান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। এ ছাড়া নির্বাচিত হিট মাস্টার ট্রেইনার ও ন্যাশনাল ট্রেইনার এবং বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ডের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ সরকার ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিদ্যমান অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা, সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং শিক্ষা খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।