একটি মহল বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বন্ধুহীন ও বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
এদিন বেলা আড়াইটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মধ্যদিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। পরে বেলা চারটা ১৯ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে এসে পৌঁছান।
এ সময় হাজার হাজার মানুষ করতালি ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করেন। এছাড়া মঞ্চের সামনে থাকা শ্রমিক নেতা-কর্মীরা তাদের হাতে থাকা কৃষি ও শিল্প সরঞ্জাম উপরে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।
সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যারা অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশ যখন গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, একটি মহল অতীতের মতো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিতর্কিত ও বন্ধুহীন করতে চায়।
স্বৈরাচারকে যেভাবে জবাব দেয়া হয়েছে, তাদের সেভাবেই প্রতিহত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে বন্ধ হওয়া কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। কলকারখানাগুলোর কোনটি কতটা দ্রুত চালু করা যায় সে বিষয় উদ্যোগ নিতে এবং বেকার শ্রমিকদের দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দিয়েছি। এ সপ্তাহে এ সংক্রান্ত একটি মিটিং আছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু এই বন্ধ কল কারখানা চালু হলেই সকল শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে না। আমরা জানি। এই শ্রমিকদের পাশাপাশি আরও বহু লাখ বেকার রয়েছে দেশে। তাদের জন্য দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য আমরা বিদেশি-দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা শুরু করেছি। তাদের উৎসাহ প্রদান করছি যাতে বিনিয়োগকারীরা দেশে কলকারখানা তৈরি করে।
কারণ আমরা জানি দেশে কলকারখানা তৈরি হলে দেশের শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। শ্রমিকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। অর্থাৎ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যখন ভালো থাকবে তখনই এই দেশ বাংলাদেশ ভালো থাকবে, যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, আপনারা দেখেছেন ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় হকার ভাইরা ছিল কিন্তু যানজটসহ সাধারণ মানুষের চলাফেরার অসুবিধার জন্য আমরা হকার ভাইদের সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমরা এটাও বুঝি তারাও মানুষ, তাদেরও পরিবার আছে, তাদেরকেও খেয়েপড়ে বাঁচতে হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি যে হকার উচ্ছেদ করলে শুধু হবে না, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচিত সরকার অবশ্যই খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
এসময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শ্রমিকের খাতায় নাম লেখানোর আহ্বান জানিয়ে তাদের দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত করার প্রত্যয় জানান সরকার প্রধান।
