ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জাবের ‘লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি’ (এলপিইউ)-তে এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, সামাজিক মাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়া এই এক অঘোষিত অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দেশজুড়ে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের হোস্টেলে এক রাজমিস্ত্রি বা প্লাম্বারের হাতে ওই ছাত্রী নিপীড়িত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। দফায় দফায় বিক্ষোভ, পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ এবং মহাসড়ক ব্লকেডে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ৬০০ একরের বিশাল এই ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য শুরু থেকেই এই ধর্ষণের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নবীন সিংলা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ কিংবা প্রাথমিক তদন্তে কোনো বহিরাগতের প্রবেশ বা ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি।
এমনকি বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরাও কোনো নির্দিষ্ট ভিকটিম বা আক্রান্ত ছাত্রীর নাম-পরিচয় দিতে পারেননি। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে।

এদিকে হোস্টেলের যে ঘরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছিল, সেই ঘরের তিন ছাত্রী এক ভিডিও বার্তায় কোনো কিছু না ঘটার কথা জানালেও পরবর্তীতে তারা অভিযোগ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক তাদের দিয়ে মিথ্যা বক্তব্য রেকর্ড করিয়েছে।
গুজব ও আতঙ্কের কারণে ক্যাম্পাসের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দিল্লির সাথে সংযোগকারী ৪৪ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক টানা ১৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। ক্যাম্পাসে বহিরাগত মাস্ক পরা দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব, বোতল ও পাথর নিক্ষেপ এবং পুলিশের লাঠিচার্জের খবরে শিক্ষার্থীদের রাত কাটছিল চরম আতঙ্কে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘর বন্ধ করে হাতে ছুরি ও কাঁচি নিয়ে সারারাত জেগে পাহারা দিয়েছেন।

পাঞ্জাব রাজ্য নারী কমিশন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তার বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে। বর্তমানে তদন্তকারী দল দুটি মূল প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, আদৌ কি কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, নাকি নিছকই গুজবের জেরে সৃষ্টি হয়েছিল এমন ভয়াবহ সহিংসতা?
তথ্যসূত্র: রয়টার্স